মেনু নির্বাচন করুন

পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা

দীর্ঘ মেয়াদী কৌশলগত পরিকল্পনা

(পঞ্চবার্ষিকী)

২০১২- ২০১৭

 

 

 

 

 

 

 

 

ইউনিয়নঃ দেওপাড়া

 

উপজেলাঃ গোদাগাড়ী

 

জেলাঃ রাজশাহী

 

বাসত্মবায়নেঃ ৭নং দেওপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ, গোদাগাড়ী, রাজশাহী।

 

 

 

 

মুখবন্ধ

 

দেওপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ আইন’ ২০০৯ অনুযায়ী ইউপি বডির সহায়তায় গত               তারিখে ইউনিয়ন পরিষদের দীর্ঘ মেয়াদী কৌশলগত পরিকল্পনার উপর ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়।  ওরিয়েন্টেশনে চেয়ারম্যান, সচিব, সকল সদস্য, ইউনিয়ন পর্যায়ে সরকারী দপ্তরের প্রতিনিধি, বেসরকারী প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, সিবিও প্রতিনিধি ও স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।  ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর দেওপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ দীর্ঘ মেয়াদী কৌশলগত পরিকল্পনা প্রণয়নে সম্মতি প্রকাশ করে। গত ১৪/১১/২০১৩ ইং                   তারিখ ইউনিয়ন পরিষদ উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় ৩০ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি দীর্ঘ মেয়াদী কৌশলগত পরিকল্পনার ইউনিয়ন টাস্ক ফোর্স গঠণ করে। এর পর ইউনিয়ন পরিষদ দীর্ঘ মেয়াদী কৌশলগত পরিকল্পনার পদ্ধতি অনুসরণ করে ইউনিয়ন টাস্ক ফোর্স ও পরবর্তীতে ওয়ার্ড পর্যায়ে ওয়ার্ড রিসোর্স টিম গঠণ করে এবং তাদের দায় দায়িত্বের উপর ০১ (এক) দিনের ওরিয়েন্টেশন প্রদান করে। গ্রাম পর্যায় থেকে সামাজিক  ইস্যু/ অবস্থা চিহ্নিতকরণ, ইউপি পর্যায়ে তথ্য বিন্যাস, বিশেস্নষণ এবং প্রতিবেদন ইত্যাদি কার্যক্রমের মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে দেওপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ দীর্ঘ মেয়াদী কৌশলগত পরিকল্পনার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। এই  প্রক্রিয়াটি ইউপির সকল উপকারভোগী ও সাধারন জনগণের উপস্থিতিতে মতবিনিময়ের প্রেক্ষাপট তৈরী হয়।

 

 

 

 

মোঃ আখতারম্নজ্জামান

চেয়ারম্যান

৭নং দেওপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ

গোদাগাড়ী উপজেলা

রাজশাহী জেলা

 

 

 

 

 

 

 

 

 

কৃতজ্ঞতা স্বীকার

 

 

ইউনিয়ন পরিষদের দীর্ঘ মেয়াদী কৌশলগত পরিকল্পনার সকল কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে পেরে আমরা আনন্দিত।  এ সমসত্মকার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে যারা নিরলসভাবে সার্বিক সহযোগিতা করেছেন দেওপাড়া ইউপির পক্ষ থেকে আমত্মরিকভাবেকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। বিশেষ করে কর্মশালা কার্যক্রম চলাকালীন বিভিন্ন সময়ে উপস্থিত থেকে মূল্যবান পরামর্শ ও নির্দেশনা প্রদানের জন্য মো: শামসুল আলমের প্রতি দেওপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে।

 

টাস্ক ফোর্স কমিটি ও ওয়ার্ড রিসোর্স টিমকে গ্রম্নপ ভিত্তিক কাজে সার্বিক সহযোগিতা  ও গুরম্নত্বপূর্ন উপদেশ ও নির্দেশনা প্রদান করায় দেওপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ এনজিও কর্মী  মোঃ জাহাঙ্গীর কবীরকে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। 

 

যাদের সার্বিক সহযোগিতার ফলে দীর্ঘ মেয়াদী কৌশলগত পরিকল্পনার কার্যক্রম যথাযথভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে  এবং এ কার্যক্রম পরিচালনায় ভেন্যু ব্যবহারের সুযোগ প্রদানের জন্য সংশিস্নষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রধান এবং সংশিস্নষ্ট ব্যক্তিদের প্রতি দেওপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ জানাচ্ছে আমত্মরিক কৃতজ্ঞতা।

 

সর্বোপরি দেওপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছে কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন পেশাভিত্তিক  জনগোষ্ঠীকে যাদের মেধা ও আমত্মরিকপ্রচেষ্টায় দীর্ঘ মেয়াদী কৌশলগত পরিকল্পনা প্রতিবেদন প্রস্ত্তত করা সম্ভব হয়েছে।

 

 

 

 

 

 

 

দীর্ঘ মেয়াদী কৌশলগত পরিকল্পনার ইউনিয়ন টাস্ক ফোর্স টিম

ইউনিয়ন পরিষদের দীর্ঘ মেয়াদী কৌশলগত পরিকল্পনা পরিচালনায় টাস্ক ফোর্স টিমকে সার্বিক পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করেছেন ইউপিতে কর্মরত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা, সহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, ইউনিয়ন সমাজকর্মী, নলকূপ মেকানিক সহ বেসরকারী সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ। ইউনিয়ন টাস্ক ফোর্স টিমের তালিকা নিম্নে দেওয়া হলো:

ক্র:ন:

নাম

সংস্থার / সংগঠনের নাম

পদবী

০১

মোঃ আখাতারম্নজ্জামান

৭নং৭দেওপাড়া ইউপি

চেয়াম্যান/ সভাপতি

০২

মোসাঃ কাজল রেখা

’’

সদস্য

০৩

কিরন বালা

’’

’’

০৪

মোসাঃ মাজিয়াতুন্নাহার

’’

’’

০৫

মোঃ এমাজ উদ্দিন

’’

সদস্য

০৬

মোঃ মামুন অর রশীদ

’’

’’

০৭

মোঃ সৈয়ব আলী

’’

’’

০৮

মোঃ সাদেক আলী

’’

’’

০৯

শ্রীঃ দুখু সরেন

’’

’’

১০

শ্রী প্রদীপ কুমার

’’

’’

১১

মোঃ বাদল হোসেন

’’

’’

১২

মোঃ আল আমিন

’’

’’

১৩

মোঃ শামসুল

’’

’’

১৪

অতনু সরকার

উপ: কৃষি কর্মকর্তা

’’

১৫

মোঃ আবুল কালাম আজাদ

শিক্ষক

’’

১৬

মোঃ শামসুল আলম

গন্যমান্য ব্যক্তি

’’

১৭

মোঃ ওলিউল ইসলাম

সুশীল সমাজ

’’

১৮

কসত্মান তিনা

এনজিও প্রতিনিধি

’’

১৯

রানা বাদশাহ

’’

’’

২০

আঃ রহিম

ইমাম

’’

২১

মোঃ সুমন আলী

উদ্যোক্তা

’’

২২

মোঃ আলতাব হোসেন

 শিক্ষক

’’

২৩

গৌর কুমার

সিবিও প্রতিনিধি

’’

২৪

কৈশিলা গজাড়

’’

’’

২৫

মোসাঃ চামেলী বেগম

সমাজসেবা অধিদপ্তর

’’

২৬

মোঃ বকুল হোসেন

কমিউনিটি প্রতিনিধি

’’

২৭

মোঃ আসগর আলী

নলকূপ মেকানিক

’’

২৮

মোঃ আলফাজউদ্দীন

স্বাস্থ্য সহকারী

’’

২৯

মোঃ রইসুদ্দিন

সিবিও প্রতিনিধি

’’

৩০

মোঃ জিব্রাইল হোসেন

৭নং দেওপাড়া ইউপি সচিব

সদস্য সচিব

 

ভূমিকাঃ

 

স্থানীয় সরকারের তৃণমূল পর্যায়ের সবচেয়ে বড় ও প্রাচীনতম প্রতিষ্ঠান হলো ইউনিয়ন পরিষদ।  ইউনিয়ন পরিষদ তৃণমূল পর্যায়ের জনগনের সেবা ও বিভিন্ন ধরনের উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বাসত্মবায়ন করে থাকে। ইউনিয়ন পরিষদ আইন’’২০০৯ অনুযায়ী ইউপির উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বাসত্মবায়নেরক্ষেত্রেদীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত পরিকল্পনা থাকা বাঞ্চনীয়।

সে লক্ষ্যে ৭নং দেওপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ ২০১২-২০১৭ সাল পর্যমত্ম ইউপির বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বাসত্মবায়নেরজন্য৫বৎসর (পাঁচ) মেয়াদীকৌশলগত পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। যাহা ইউপির কার্যক্রম বাসত্মবায়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

 

স্থানীয় এলাকা পরিচিতিঃ

অবস্থানঃ

পদ্মা নদীকে বুকে ধারণ করে সগৌরবে অবস্থান করছে দেওপাড়া ইউনিয়ন। রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার অমত্মর্গত দেওপাড়া ইউনিয়নের পশ্চিমে  বাসুদেবপুর উপজেলা, উত্তরে বিসত্মৃত অংশ কাকনহাট পৌরসভা ও ঋষিকুল ইউনিয়ন, দক্ষিনে ভারত ও পূর্বে হরিপুর ইউনিয়ন। জেলা সদর থেকে দেওপাড়া ইউনিয়নের দূরত্ব ১৫ কিলোমিটার।

 

আয়তনঃ দেওপাড়া ইউনিয়নের আয়তন ১৫.০৯ বর্গ কিলোমিটার। এ ইউনিয়নের অমত্মর্গত  মৌজার সংখ্যা ৩৬টি ও গ্রামের সংখ্যা ৭৩টি।

 

 জনসংখ্যাঃ

 

এ ইউনিয়নের মোট জনসংখ্যা ৪৪,০৮৮ জন। এর মধ্যে পুরম্নষ ২২,৮৪৬ জন, নারী ২১,২৪২ জন। মোট পরিবারের সংখ্যা  ৭,২৮৪ টি।

 

শিক্ষার হারঃ

 দেওপাড়া ইউনিয়নে শিক্ষার হার  ৬০ %।

 

বাঁধঃ

দেওপাড়া ইউনিয়নে বাঁধের সংখ্যা ০২টি। ভাগাইল চকপাড়া থেকে ভাগাইল (৪ কিলোমিটার)  ও নাজিরপুর থেকে কুমরপুর (৪ কিলোমিটার)।

 

সস্নুইসগেটঃ

এই ইউনিয়নে ০২টি স্লুইসগেট আছে।

ব্রীজঃ

এই ইউনিয়নে ০৭টি ব্রীজ আছে।

 

 

কালভার্টঃ

এই ইউনিয়নে ৮০টিছোট বড় কালভার্ট আছে।

 

সেচ ব্যবস্থাঃ

দেওপাড়া ইউনিয়নে গভীর নলকূপ এবং শ্যালো মেশিনের সাহায্যে সেচ ব্যবস্থা চালু আছে। গভীর নলকূপের সংখ্য ২০টি এবং শ্যালো মেশিনের সংখ্য ১৪২টি।

 

সামাজিক সম্পদ

 

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান/ পাঠাগারঃ

দেওপাড়া ইউনিয়নে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ১০টি, উচ্চ বিদ্যালয় ৪টি,  উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় ২টি, দাখিল মাদ্রাসা ১টি, হাফিজিয়া মাদ্রাসা ৩টি, এনজিও স্কুল ৬টি ও কলেজ ২টি।

 

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান (মসজিদ/ মন্দির/গীর্জা)ঃ

এই ইউনিয়নে মসজিদ ৫২টি, মন্দির ৯টি এবং গীর্জা ৭টি।

ধর্মীয় জমায়েত স্থান (ঈদগাঁহ)ঃ

দেওপাড়া ইউনিয়নে ১২টি স্থানে ঈদগাঁহ আছে।

 

কমিউনিটি ক্লিনিকঃ

দেওপাড়া ইউনিয়নে ০৬টি কমিউনিটি ক্লিনিক আছে।

 

ব্যাংকঃ

এই ইউনিয়নে ০৩টি ব্যাংক আছে।  (বেসরকারি)

 

পোস্ট অফিসঃ

এই ইউনিয়নে ০৩টি পোস্ট অফিস আছে।

 

ক্লাব/সাংস্কৃতিক কেন্দ্রঃ

দেওপাড়া ইউনিয়নে কোন সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নেই তবে ৩টি ক্লাব আছে।

 

স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাসমূহঃ

দেওপাড়া ইউনিয়নে যে সমসত্ম বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা (এনজিও) কাজ করে আসছে সেগুলো হলো কারিতাস, পার্টনার, ব্র্যাক, আশা, টিএমএসএস, জাগরনী চক্র, সচেতন, ঘাসফুল, গ্রামীণ ব্যাংক, এসিডি, ওয়ার্ল্ড ভিশন ইত্যাদি।

 

হাট/বাজারঃ

এই ইউনিয়নে ৩ হাট আছে কিন্তু কোন বাজার নাই।

 

খেলার মাঠঃ

এই ইউনিয়নে ০৬টি খেলার মাঠ আছে।

 

কবরস্থান/ শ্মশানঘাটঃ

এই ইউনিয়নে ১৫টি কবরস্থান ও ২টি শ্মশানঘাট আছে।

 

দুস্থঃ আশ্রয় কেন্দ্রঃ

এই ইউনিয়নে ৫টি দুস্থঃ আশ্রয় কেন্দ্র আছে।

 

কৃষি ও খাদ্যঃ

দেওপাড়া ইউনিয়নের প্রধান ফসল হলো ধান, গম, আলু, ভুট্টা প্রভৃতি। এছাড়া মশুর, সরিষা, পেঁয়াজ, মরিচ, বাঁধাকপি, ফুলকপি, বেগুন ইত্যাদির চাষ করা হয়। প্রধান খাদ্য ভাত, রম্নটি , আলু।

 

মৎস্য চাষঃ

দেওপাড়া  ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থিত পুকুরে মাছ চাষ করা হয়। যেমনঃ রুই, কাতলা, মৃগেল, সিলভার কার্প, গ্রাস কার্প, মাগুর, ব্রীগেট, পাঙ্গাস, তেলাপিয়া ইত্যাদি।

 

পশুপালনঃ

দেওপাড়া ইউনিয়নের জনগন গরম্ন, মহিষ, ছাগল, ঘোড়া, হাঁস, মুরগী ইত্যাদি পালন করে থাকে।

 

খামারঃ

এ ইউনিয়নে ১৫টি মুরগী ও ৪টি গরম্নর খামার আছে। ইউনিয়নে আছে মোট গরম্ন ৫,৫৯০টি, মহিষ ৩,২০০টি, ঘোড়া ১০টি, ছাগল ৯,৯২৩টি,ভেড়া ৫৩০টি, হাঁস ৬,৭৮০টি ও মুরগী ৩২,৭৫৪টি।

 

স্বাস্থ্যসেবাঃ

দেওপাড়া ইউনিয়নে বিভিন্ন এনজিও সংস্থার  স্বাস্থ্য কর্মীদের মাধ্যমে এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান কর্মকান্ড চালু আছে।

 

রোগ ব্যাধিঃ

মানুষের রোগব্যাধির মধ্যে বসমত্ম, আমাশয়, ডায়রিয়া, জ্বর, টাইফয়েড, সর্দি-কাশিসহ আরো অনেক রোগব্যাধি লক্ষ্য করা যায়। গৃহপালিত পশুর রোগব্যাধির মধ্যে ক্ষুরা, কৃমি, রানীক্ষেত, পিপিয়ার প্রর্ভতি পরিলক্ষিত হয়।

 

 

 

আর্সেনিক দূষনঃ

এলাকার লোকজনের ও বিভিন্ন সংস্থার জরিপ রিপোর্টে দেওপাড়া ইউনিয়নের ভাগাইল গ্রামে  আর্সেনিক আছে।

 

পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থাঃ

দেওপাড়া ইউনিয়নের ৯০% মানুষ খাবার ও অন্যান্য কাজে নলকূপ ও গভীর নলকূপের পানি ব্যবহার করে।  ইউনিয়নের মোট নলকূপ সংখ্যা ১,৭২২টি। এর মধ্যে গভীর নলকূপ ১,০০২টি ও অগভীর নলকূপের সংখ্যা ৭২০টি। দেওপাড়া ইউনিয়নে পায়খানার সংখ্যা ৫,২২৫টি, এর মধ্যে স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা ২,৫০০টি ও অস্বাস্থ্যকর পায়খানা ২,৭২৫টি।

 

পুষ্টিঃ

দেওপাড়া ইউনিয়নে বর্তমানে পুষ্টি বিষয়ক কোন কার্যক্রম চালু নেই।

 

লবনাক্ততাঃ

দেওপাড়া ইউনিয়নের পাশ দিয়ে কোন সাগর না থাকায় এখানে লবনাক্ততা নেই।

 

ভৌত বৈশিষ্ট ও মাটির ধরণঃ

দেওপাড়া ইউনিয়নটি মূলত: উচু,নিচু,সমতল ও নদী বিধৌত চর দ্বারা গঠিত। দেওপাড়া ইউনিয়নের মাটির ধরণ বেলে, দো আঁশ ও এঁটেল মাটি।

 

 

নদীঃ

পদ্মা নদী এ ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত। দেওপাড়া ইউনিয়নের নাজিরপুর থেকে কুমরপুর পর্যমত্ম৬কিঃমিঃ পদ্মা নদী প্রবাহিত।

 

পুকুরঃ

এই ইউনিয়নে ৭২০টি০ছোট বড় পুকুর আছে।

 

খালঃ

এই ইউনিয়নে খালের সংখ্যা ০৩টি।

 

বিলঃ

এই ইউনিয়নে বিলের সংখ্যা ০৫টি

জলাশয়ঃ

এই ইউনিয়নে জলাশয় আছে ০২টি।

 

হাওড়ঃ

এই ইউনিয়নে কোন হাওড় নেই।

 

যোগাযোগ ও পরিবহনঃ

দেওপাড়া ইউনিয়নে ৫০ কিলোমিটার পাকা, ৫কিলোমিটার আধা পাকা ও ৫২  কিলোমিটার কাঁচা রাসত্মাআছে।

 

পরিবহনের মাধ্যমঃ

এই ইউনিয়নের জনগন বাস,ভ্যান, রিক্রা্, টেম্পু, ভুটভুটি, নসিমন, করিমন, মিশুক, অটো চার্জার ইত্যাদি যানবাহনের মাধ্যমে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাতায়াত করে।

 

বিদ্যুৎ ব্যবস্থাঃ

দেওপাড়া ইউনিয়নের প্রায় ৮০% মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধা পেয়ে থাকে। যে সমসত্মএলাকায় বিদ্যুৎ নেই সে সমসত্মএলাকায়বিদ্যুৎব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

 

টেলিযোগাযোগ/ মোবাইলঃ

দেওপাড়া ইউনিয়নে টেলিযোগাযোগ ও মোবাইল ব্যবস্থা চালু আছে।

 

জীব ও বৈচিত্রঃ

দেওপাড়া ইউনিয়নে বন্য পশু পাখির উপস্থিতি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ব্যাপক ভূমিকা পালন করে। অবশ্য প্রাকৃতিক দূর্যোগ এবং মানুষের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের প্রভাবে বন্য প্রাণীর আবাসভূমি ও এলাকা ধীরে ধীরে হ্রাস পাচ্ছে।

 

 গাছপালাঃ

দেওপাড়া ইউনিয়নে আম, লিচু, কাঠাল, নারিকেল, কলা, পেঁপে, কড়ই, মেহগনি, শিশুসহ বিভিন্ন ধরনের গাছপালা দেখতে পাওয়া যায়।

 

মৎস্য সম্পদঃ

এই ইউনিয়নে মাগুর, চিতল, কাল বাউস, রুই, পাঙ্গাস, বোয়াল, সিলভার কার্প, মিনার কার্প, বিদেশী পুটি, তেলাপিয়া ইত্যাদি মাছ পাওয়া যায়।

 

পাখিঃ

মাছরাঙ্গা, পানকৌড়ি, বাবুই, চিল, কাক, পেঁচা, চড়ুই, কোকিল, ময়না, শালিক, দোয়েল ইত্যাদি দেখতে পাওয়া যায়।

 

আবহাওয়া ও জলবায়ু

 

বৃষ্টিপাতের ধারাঃ

দেওপাড়া ইউনিয়নের লোকেরা বলেছে যে বৃষ্টিপাতের ধারার পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দেওপাড়া ইউনিয়নে ছয় বছর আগেও আষাঢ় শ্রাবন মাসে প্রচুর বৃষ্টিপাত হতো কিন্তু বর্তমান সময়ে তা চোখে পড়েনা। আগের চেয়ে বর্তমানে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমে গেছে। এবং আবহাওয়ার একটা বিরূপ প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সময়ের চেয়ে অসময়ে বৃষ্টিপাত বেশী হয়।

 

ভূ-গর্ভস্থ পানির সত্মরঃ

এলাকা ভিত্তিতে  ভূ-গর্ভস্থ পানির সত্মরের পরিবর্তন হয়। কোন কোন এলাকায় ১২০-১৪০ ফুটের মধ্যে পানি পাওয়া যায়। কোন কোন এলাকায় পানির সত্মর আরও নীচে নেমে গেছে অর্থাৎ  ১৭০-২০০ ফুট নীচে পানি পাওয়া যায়।

 

খরা প্রবনতা ও ভবিষ্যত চিত্রঃ

দেওপাড়া ইউনিয়নে ফাল্গুন, চৈত্র, বৈশাখ ও জৈষ্ঠ্য মাসে খরা হয়। দিন দিন খরার তীব্রতা ও স্থায়ীত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিগত কয়েক বছরে আষাঢ় শ্রাবন মাসেও বৃষ্টি হচ্ছে না। যার ফলে খরায় ক্ষতির পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই খরার প্রবণতা দিনের পর দিন স্থায়ীত্ব ও বৃদ্ধি পেতে থাকলে ভবিষ্যতে এই এলাকায়পরিবেশ বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।

 

শৈত্য প্রবাহের প্রবণতা ও ভবিষ্যত চিত্রঃ

দেওপাড়া ইউনিয়নে প্রতি বছর শীত মৌসুমে ব্যাপক শৈত্য প্রবাহ হয়। ইউনিয়নটি পদ্মা নদীকে বুকে ধারণ করে থাকায় শৈত্য প্রবাহের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। এর ফলে বর্তমানে আমের মুকুল, লিচুর মুকুল ও মসূরসহ বিভিন্ন ফসল ও মানুষের জনজীবনে ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে ফসল, গাছপালাসহ মানুষের জীবন যাত্রায় ব্যাপক প্রভাব ফেলবে।

 

তাপদাহের প্রবণতাঃ

বর্তমানে দেওপাড়া ইউনিয়নে তাপদাহের প্রবণতার পরিবর্তন হয়েছে। চৈত্র, বৈশাখ ও জৈষ্ঠ্য মাসে এখানে প্রচন্ড তাপদাহ হয়। যা আগের তুলনায় অনেক বেশী। এ ছাড়া  আষাঢ় শ্রাবন ও ভাদ্র মাসেও প্রচন্ড খরা বিরাজমান করে যা আগের তুলনায় অনেক বেশী। বছর বছর এর প্রবণতা বেড়েই চলেছে যা ফসলের, গাছপালা এবং মানুষের জীবন যাপনের উপর ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। তাপদাহের প্রবণতা বছর বছর এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে এই এলাকার পরিবেশের ভয়াবহ বিপর্যয় হবে বলে এলাকাবাসীর অভিমত।

 

কালবৈশাখীঃ

দেওপাড়া ইউনিয়নে বিগত কয়েক বছর আগে কালবৈশাখী ঝড় হতো ২/৩ বছর পর পর। কিন্তু ২০০৬ সাল হতে প্রতি বছর কালবৈশাখী ঝড়ের আঘাত হানে। এত আম, লিচুসহ অন্যান্য কৃষি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে। এভাবে প্রতি বছর কালবৈশাখী ঝড় সংঘঠিত হলে এলাকার মানুষের চরম বিপর্যয় দেখা দিবে।